হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ pdf free

হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ নিয়ে আজকের আর্টিকেল আমরা আলোচনা করবো। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা জার্মানিতে প্রায় ২০০ বছর আগে আবিষ্কৃত হয়। অ্যালোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথির মুল পার্থক্য হলো এই চিকিৎসায় শারীরিক বিষয় সহ মানসিক এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে সমান প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদিও হোমিওপ্যাথির কিছু ধারণা বৈজ্ঞানিক ভাবে ভিত্তিহীন। তবে এটি ২০০ বছর ধরে সফল ভাবে চলে আসছে। কখনো কখনো হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার থেকে বেশী ফলদায়ক হয়। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। দেরী না করে চলুন আমাদের আজকের আলোচনা শুরু করি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই ওষুধের নাম কাজ pdf

হোমিওপ্যাথি একটি জনপ্রিয় এবং সফল চিকিৎসা পদ্ধতি। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক রোগ নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ এই বিষয়ে আমাদের জানতে হলে অবশ্যই বই পড়তে হবে। বর্তমানে আপনি অনলাইনে প্রচুর বই পেয়ে যাবেন। তবে তার মধ্যে সবথেকে সেরা বইটি নিয়ে আমরা আজ হাজির হয়েছি। এই বইটি থেকে আপনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। 

হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ এই বইটি লিখেছেন জনপ্রিয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক শ্রী মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য্য। এই বইটি হোমিওপ্যাথিক প্রচুর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া বইটিতে কোন কিছু বোঝানোর জন্য ছোট ছোট গল্প বলা হয়েছে। বইটি পড়ার সময় আপনি হোমিওপ্যাথিক বিষয় শেখার পাশাপাশি গল্প পড়ে বিনোদনও পাবেন।

 বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রোগ এবং উপসর্গের সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। বইটি একাধারে সাধারণ মানুষ সহ চিকিৎসকদের জন্যও অনেক উপকারী হবে। বইটি মোট পাঁচটি পার্টে বিভক্ত। এর মধ্যে দুইটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

 প্রথমটি হলো ভেষজ বিজ্ঞান এবং দ্বিতীয়টি হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় প্রচুর ভেষজ বিষয়ক জ্ঞান থাকা লাগে। ভেষজকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ভিত্তি বলা যায়। তাই মুলত ভেষজ নিয়ে আলাদা একটি পার্টে আলোচনা করা হয়েছে।

 এছাড়া মুল বিষয় চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়েছে। বইটি পড়তে প্রথম দিকে আপনার একটু কষ্ট হতে পারে। কারণ বইটি সাধু ভাষায় লেখা। এছাড়া বইটি পড়ার আগে বিভিন্ন ধরনের গাছের নাম সহ তাদের পরিচিত সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।

 বিশেষ করে কোন হোমিওপ্যাথি স্টুডেন্ট যদি বইটি পড়েন তাহলে ভেষজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে পড়বেন। হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ নিয়েও অনেক আলোচনা করা হয়েছে। বইটির সরাসরি নিচে দেওয়া হলো। হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ বইটি আপনি লিংক থেকে সরাসরি পড়তে পারবেন অথবা করে নিতে পারেন।

হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার নিয়ম নিয়ে এই অংশে আমরা আলোচনা করবো। অ্যালোপ্যাথি ওষুধের মতো হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। এই নিয়ম গুলো না মেনে চললে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া দেহে ওষুধের প্রভাব কমে যাওয়ার আশংকা থাকে। নিচে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম দেওয়া হলো।

১. হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে নেশাগ্রস্ত বস্তু সম্পূর্ণরুপে পরিহার করবেন।

২. হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার আগে অথবা পরে ২০-৩০ মিনিট পানি খাবেন না।

৩. কুলি করে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

৪. হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়ার পর টক জাতীয় জিনিস একদমই খাবেন না।

৫. বাজার থেকে কেনা বই অনুযায়ী নিজে নিজে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করতে যাবেন না। সর্বোপরি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেন।

হোমিওপ্যাথিক অশ্বগন্ধার উপকারিতা

অশ্বগন্ধা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার একটি পরিচিত নাম। বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যধি নিরাময়ে অশ্বগন্ধার জুড়ি নেই। এজন্যই মুলত দক্ষিণ এশিয়া সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এর প্রচুর চাহিদা। অশ্বগন্ধাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে প্রচুর হোমিওপ্যাথিক সহ বিভিন্ন ধরনের অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হচ্ছে। এই অংশে আমরা হোমিওপ্যাথিক অশ্বগন্ধার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। অশ্বগন্ধা টেস্টোস্টেরন হরমন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। পুরুষদের গোপনাঙ্গ চিকিৎসায় বেশিরভাগ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক অশ্বগন্ধা ব্যবহার করে। এছাড়া এটি প্রতিনিয়ত সেবন করলে যৌন আকাঙ্ক্ষাও বৃদ্ধি পায়। অশ্বগন্ধা শরীরে রোগ প্রতিরোধকারী কোষ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ সৃষ্টিকারী উপসর্গ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অশ্বগন্ধা অধিক চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। অনেকগুলো সমীক্ষা থেকে জানা গেছে অশ্বগন্ধা সেবনে অনেকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং মস্তিষ্কের উন্নতি হয়েছে। অনিদ্রা দূরীকরণে অশ্বগন্ধা অনেক কার্যকরী। এটিতে ট্রাইথিলিন গ্লাইকোল নামক রাসায়নিক যোগ্য আছে যা অনিদ্রা দুর করতে সাহায্য করে। অশ্বগন্ধা আপনি বিভিন্ন ভাবে খেতে পারেন। বাজারে হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীতে অশ্বগন্ধার বড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া ফার্মেসীতে অশ্বগন্ধার গুড়োও পাবেন। চিকিৎসক এবং সেবনকারীদের মতে অশ্বগন্ধা দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে সবথেকে বেশি উপকার হয়। এছাড়া আপনি অশ্বগন্ধার গুড়ো হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেতে পারেন।  অথবা আপনার নিকটস্থ কোন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন।

হোমিওপ্যাথি ওষুধ বেশি খেলে কি হয়

হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ নিয়ে আমরা এতক্ষণ বিস্তারিত আলোচনা করলাম। এবার আমরা জানবো হোমিওপ্যাথি ওষুধ বেশি খেলে কি হয়। হোমিওপ্যাথি ওষুধ এলার্জী সৃষ্টি করতে পারে। অতএব এলার্জী ভুক্তভোগীদের জন্য হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া আপনি যদি গর্ভবতী অথবা খারাপ অবস্থায় থাকেন তাহলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করবেন। হোমিওপ্যাথি ওষুধ সঠিক নিয়মে না খেলে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অ্যালোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একসাথে নিলে আপনার রোগের লক্ষণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা থাকবে। এই বিষয় গুলো ছাড়া হোমিওপ্যাথি তুলনামূলক সেফ। অতএব উপরোক্ত বিষয় গুলো মেনে চলার চেষ্টা করবেন।

চুল পাকা বন্ধের ঔষধ হোমিওপ্যাথি

চুল বিভিন্ন কারণে পাকতে পারে। সাধারণত মেলানোসাইটের প্রভাবে চুল পাকে। এই মেলানোসাইট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাড়াতাড়ি চুল পেকে যেতে পারে। এছাড়া কোন কারণে চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং অক্সিজেন সরবরাহ না হলে অকালে চুল পেকে যেতে পারে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় চুলপাকা বন্ধের কিছু ওষুধ আছে। তবে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ গুলো চুল পাকা রোগে বেশি কার্যকরী। আপনি বাজারে হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীতে বিভিন্ন ধরনের চুল পাকা বন্ধের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ পেয়ে যাবেন। তবে এর মধ্যে গোদরেজ নামক ওষুধটি বেশি কার্যকরী। এই ওষুধটি সাধারণভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকেরা চুল পাকা রোগের জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই ওষুধটি চুলে সঠিক পরিমাণে খাদ্য এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। এছাড়া চুলের গোড়া শক্ত করে। ফলে চুল পাকা রোগ সহ অকালে চুল পড়া রোগ থেকেও মুক্তি পাবেন।

পিত্তথলির পাথর গলানোর হোমিওপ্যাথি ঔষধ

পিত্তথলির পাথর বা কোলেলিথিয়াসিস অনেক যন্ত্রণাদায়ক একটি রোগ। সাধারণত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় পিত্তথলির পাথর রোগটি নিরাময় হয়ে যায়। তবে লক্ষন বেশি দেখা দিলে অপারেশন করা লাগতে পারে। আমরা যখন চর্বিজাতীয় খাবার খায় তখন পিত্তরস সেই খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এই পিত্তরসের কারণে মুলত পিত্তথলিতে পাথর হয় এবং সবথেকে বড় লক্ষণ নাভিতে ব্যথা হওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। পিত্তথলির চিকিৎসায় কোলেস্টেরিনাম, কার্ডুয়াস মেরিয়েনাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব, মার্ক সল নামক বিভিন্ন ধরনের হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলো খুব একটা কাজে নাও দিতে পারে। তাই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জার্মানি হোমিওপ্যাথি ওষুধ চেনার উপায়

জার্মান হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্মস্থান। তাই স্বাভাবিক ভাবেই জার্মানি হোমিওপ্যাথি ওষুধ আমাদের দেশীয় ওষুধ থেকে বেশি কার্যকরী। এছাড়া জার্মানী ওষুধ গুলোর গুনগত মান ভালো এবং রোগ নিরাময়ে বেশি কার্যকরী। জার্মানী হোমিওপ্যাথি ওষুধ আপনি প্রায় প্রত্যেকটি হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসীতে পেয়ে যাবেন।

5 thoughts on “হোমিওপ্যাথি ওষুধের নাম ও কাজ pdf free”

  1. Pingback: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে অনুচ্ছেদ রচনা -

  2. Pingback: ই ক্যাপ 400 এর উপকারিতা অপকারিতা -

  3. Pingback: অপরিচিতা গল্পের mcq প্রশ্নের উত্তর Pdf -

  4. Pingback: টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধির ট্যাবলেট ও উপায় -

  5. Pingback: অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর Pdf -

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top