টানা ৩৭ দিন পর দূর হলো তাপপ্রবাহ

টানা ৩৭ দিন পর তাপপ্রবাহ চলে গেল। 31শে মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছিল, যা আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী মঙ্গলবার (৭°) শেষ হয়েছে।

গত সোমবার গোপালগঞ্জ, যশুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ থেকে রাজশাহী ও পাবনাইতে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। 16 এপ্রিল থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়। এদিন চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাটের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে।

এরপর সারাদেশের অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। কালো ফুলও দেখা যায় না। ঢাকায় সর্বশেষ বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৭ এপ্রিল। সারাদেশে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

20 এপ্রিল, দিনের তাপমাত্রা বিভিন্ন স্থানে 42 ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে, যার অর্থ তাপ প্রবাহ খুব তীব্র হয়ে ওঠে। ওই দিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। মাটি থেকে খুব তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

গত ২৯ এপ্রিল ঢাকায় ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা এই মৌসুমে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল। এ ছাড়া গত ৩০ এপ্রিল উপকূলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যা ১৯৮৯ সালের পর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল।

মে মাসের শুরুর পর তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও তীব্রতা বাড়ে ও কমে। ২ মে রাতে ঢাকায় বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পাশাপাশি ঝড়ও হয় অন্যান্য এলাকায়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সারাদেশ থেকে তাপপ্রবাহ চলে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা মৃদু, ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা মাঝারি। ডিগ্রী সেলসিয়াস হলে তা তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে একে বলা হয় অত্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ৩১ মার্চ থেকে দেশে তাপপ্রবাহ শুরু হয়। আজ দেশের আর কোথাও তাপপ্রবাহ নেই।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রবণতা ১৩/১৪ মে পর্যন্ত থাকতে পারে। তাহলে হয়তো কোথাও কিছু ফাঁক থাকতে পারে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকা যে বৃষ্টিহীন থাকবে তা নয়। ২০ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এ মাসের শেষ দশকে কী হবে তা পরে বলা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিমাঞ্চলীয় নিম্নচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পশ্চিমবঙ্গ মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top